রিসোর্ট উন্নয়নের জন্য ইজারা দেওয়া একটি লেগুনের তুলনায় রাস মালে প্রকল্প থেকে রাষ্ট্র আট গুণ বেশি পর্যটন পণ্য ও সেবা কর (টিজিএসটি) পাবে বলে জানিয়েছেন মালদ্বীপের অবকাঠামোমন্ত্রী ড. আবদুল্লা মুত্তালিব। ২৪ অক্টোবর তিনি এ কথা বলেন।

মালদ্বীপ অ্যাকাউন্ট্যান্টস ফোরামে অতিথি বক্তা হিসেবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৩৪ কোটি মার্কিন ডলার (৫২০ কোটি রুফিয়া) টিজিএসটি আসবে। এতে প্রতি হেক্টরে বছরে আয় দাঁড়ায় প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

তিনি বলেন, পর্যটন আইনের অধীনে একটি রিসোর্ট থেকে ৯৯ বছরে রাষ্ট্রের আয় ধরা হয় ৭ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অথচ রাস মালে মডেলে ১০ বছরেই রাষ্ট্র প্রায় ৩১০ কোটি ডলার পাবে।

মালিকানা নয়, দীর্ঘমেয়াদি ইজারা

মন্ত্রী জানান, মালদ্বীপের আইন অনুযায়ী রাস মালের জমি ও ভবন সর্বোচ্চ ৯৯ বছরের লিজহোল্ড ভিত্তিতে বিক্রি হবে। ফুশিধিগ্গারু লেগুন ভরাট করে তৈরি ৫০০ হেক্টর জমিতে ৮,৮০০টি সম্পত্তি গড়ে তোলা হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ইগল হিলসের সঙ্গে প্রকল্পটির আইনি চুক্তি সই হয় ২১ সেপ্টেম্বর। প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পটিকে ‘মালদ্বীপ ওয়াটারফ্রন্ট অ্যান্ড মেরিনা’ নামে বাজারজাত করছে। সরকার বলছে, চুক্তির আওতায় রাষ্ট্র আগাম প্রায় ৫০ কোটি ডলার (৭৭০ কোটি রুফিয়া) মূল্যের ৫,০০০টি আবাসন ইউনিট পাবে।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ডেভেলপারের আয়ের ১০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩১০ কোটি ডলারও রাষ্ট্র পাবে এবং প্রকল্পটি কর থেকে অব্যাহতি পাবে না।

কর্মসংস্থান ও রিসোর্ট খাতের সুরক্ষা

মুত্তালিব বলেন, রাস মালে দুই ধরনের ব্যবসার সুযোগ তৈরি করবে—পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, খাদ্য সরবরাহ, খুচরা বিক্রি ও রেস্তোরাঁর মতো সেবা; এবং হিসাবরক্ষণসহ আর্থিক ও পেশাদার সেবা, ডিজিটাল, সামুদ্রিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত।

তিনি বলেন, ‘এক দ্বীপ, এক রিসোর্ট’ মডেল প্রকল্পের পাশাপাশি চলবে। এই মডেলকে মালদ্বীপের পর্যটনের ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ওই ব্যবসাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করব।’

মন্ত্রী আরও বলেন, আবাসন ব্যবসার কারণে রিসোর্ট পর্যটন থেমে যাবে না; বরং রাস মালে দেশের পর্যটনকে বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ এনে দেবে।