আদ্দু সিটির সিনু (এস.) মিধুর এক কৃষক দাবি করেছেন, মালদ্বীপে প্রথমবারের মতো তিনিই কফি বিন ফলিয়েছেন। তাঁর সাতটি কফি গাছে ফল ধরেছে।
‘জুভান ধান্ডুভেরিয়া’ (তরুণ কৃষক) নামে পরিচিত ৪১ বছর বয়সী আবদুল্লাহ রামজি বলেন, ২০২০ সাল থেকেই নিজের জমিতে কফি চাষের স্বপ্ন দেখছিলেন। তিনি ইতিমধ্যে বড় পরিসরে ড্রাগন ফল ও শসা চাষ করেন।
তিনি জানান, পাকিস্তান থেকে আনা একটি কফি চারা দিয়ে প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হয়, কারণ গাছটি স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেনি। পরে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার একটি কফি বাগান থেকে চারা নিয়ে আসেন।
বছরের পর বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা
রামজি বলেন, প্রথমে চারাগুলো ঢাকা জায়গায় রেখে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ানো হয়; ২০২৪ সালে সেগুলো সরাসরি রোদে সরানো হয়।
তিনি বলেন, ‘পুরো রোদে রাখার পরও মাসে একবার মাটি ঠিক করে পিএইচ ভারসাম্য রাখি। গত বছর গাছে ফুল আসতে শুরু করে।’
তাঁর ভাষ্য, খেতে মৌমাছি না থাকায় শুরুতে ফুল থেকে ফল হয়নি। মৌমাছি টানতে কফি গাছের পাশে ফুলের গাছ লাগান এবং হাতেও পরাগায়নের চেষ্টা করেন। এরপর সাতটি গাছের ফুল কফি চেরিতে পরিণত হয়েছে।
প্রায় ছয় মাস রেখে দেওয়ার পর বিনগুলো রোস্ট করে নিজের কফির স্বাদ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘লোকে বলে, মালদ্বীপের পরিবেশ অনুযায়ী ফলালে স্বাদ আরও ভালো হবে।’
বাণিজ্যিক চাষের পরিকল্পনা
রামজি জানান, প্রতিটি গাছ থেকে আরও ১০টি করে চারা তৈরি করা যাবে। মালদ্বীপে বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষ সম্ভব কি না, তা যাচাই করাই এখন তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য।