মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা মালদিভিয়ান শিগগিরই মালে ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নিয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ড. মোহামেদ মুইজ্জু। ২২ অক্টোবর ইসলামাবাদে মালদ্বীপ-পাকিস্তান বিজনেস ফোরাম ২০২৬-এ তিনি এ ঘোষণা দেন।
মুইজ্জুর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শেষ দিনে আয়োজিত এ ফোরামে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মালদ্বীপের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ৫৪০ জন এতে অংশ নেন, যা এ ধরনের ফোরামে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
মূল বক্তব্যে মুইজ্জু বলেন, আগের দিন তিনি ও শরিফ দুই বছরের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে একমত হয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হিসাবে বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ ১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার।
আকাশ ও সমুদ্রপথে সংযোগ
দ্বীপরাষ্ট্রের জন্য সমুদ্র সংযোগকে অর্থনীতির প্রাণরেখা আখ্যা দিয়ে মুইজ্জু দুই দেশের শিপিং, বন্দর ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক রুট খোঁজার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, করাচি ফ্লাইট যাতায়াত সহজ করবে এবং বাণিজ্য ও পর্যটনে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
শরিফ বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কোনো সরাসরি ফ্লাইট নেই এবং পিআইএ বা অন্য কোনো পাকিস্তানি বিমান সংস্থার মাধ্যমে দ্রুত ফ্লাইট চালু করতে দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করাচি বা গোয়াদর থেকে মালে পর্যন্ত একটি নির্ভরযোগ্য শিপিং লাইনের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের মন্ত্রীদের অল্প সময়ের মধ্যে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানান।
শরিফ জানান, মুইজ্জু দেশে ফেরার প্রায় এক সপ্তাহ পর পাকিস্তানের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল মালদ্বীপ সফরে যাবে। তিনি বলেন, গতানুগতিক সমঝোতা স্মারকের চেয়ে বাস্তবায়নযোগ্য চুক্তিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগের খাত
মুইজ্জু বলেন, মালদ্বীপকে ছোট বাজার ভাবা ঠিক হবে না; দেশটিতে প্রায় পাঁচ লাখ বাসিন্দা এবং বছরে ২০ লাখের বেশি পর্যটক আসেন। খাদ্য নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় উল্লেখ করে তিনি কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষিপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।
তিনি পাকিস্তানি ওষুধ প্রস্তুতকারক, নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিনিয়োগকারীদেরও আমন্ত্রণ জানান। ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের ৩৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি সুকুক ও হালাল ভ্যালু চেইনসহ ইসলামি অর্থায়নে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
ফোরামে মালদ্বীপের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আয়েশাত সামাহা পাকিস্তানি বিনিয়োগকারীদের সামনে রাস মালে প্রকল্প উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসহ এতে ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ জড়িত, নির্মাণকালে ৫৪ হাজারের বেশি এবং স্থায়ীভাবে ১৪ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তিতে এই সফর গত ১১ বছরে কোনো মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের প্রথম পাকিস্তান সফর। ২১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর দুই দেশ ২০টি সমঝোতা স্মারক বিনিময় করে।